জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা বাংলা ১ম পত্র

*সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

প্রিয় শিক্ষার্থী, আজ বাংলা ১ম পত্র থেকে সৃজনশীল পদ্ধতির একটি নমুনা প্রশ্নোত্তর আলোচনা করা হলো।

নীল আকাশে উড়ন্ত পাখিদের দেখলে ঝগড়ুর হূদয় চঞ্চল হয়ে ওঠে। আনন্দে সে আত্মহারা হয়ে যায়। এই পৃথিবীতে তার কেউ নেই। বনের পশুপাখিই তার আপনজন। পশুপাখিদের কোনো কষ্ট সে সহ্য করতে পারে না। আহত পশুপাখিদের সেবা করাকে সে জীবনের ব্রত হিসেবে নিয়েছে।

. কোন পাখি একটু দেরি করে আসত?

. মানবেতর প্রাণীর প্রতি লেখকের সহানুভূতির স্বরূপ প্রকাশ করো।

. উদ্দীপকের ঝগড়ুর মানসিকতার সঙ্গে ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের লেখকের মনোভাবের সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো।

. মানবেতর পশুপাখির সঙ্গে কোন ধরনের আচরণ করা উচিত বলে তুমি মনে করো? উদ্দীপক ও ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের আলোকে বুঝিয়ে লেখো।

উত্তর: ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের বেনে-বৌ পাখি একটু দেরি করে আসত।

উত্তর: ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পে একটি মানবেতর প্রাণীর প্রতি লেখকের অকৃত্রিম মমতা ও গভীর সহানুভূতি প্রকাশ পেয়েছে।

দেওঘরের রাস্তায় দেখা কুকুরটিকে লেখক আন্তরিকতাপূর্ণ আচরণে অতিথির মর্যাদা দান করে। তার থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করে। মানবেতর প্রাণীর প্রতি রূঢ় আচরণ না করে বরং সহানুভূতিপূর্ণ আচরণে তাকে আপন বন্ধুর মর্যাদা দান করে। এরপর বিদায়বেলায় বিচ্ছেদ বেদনায় কাতর হয়ে কুকুরটির দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। কুকুরটিও ছলছল নয়নে পলকহীন চোখে লেখকের ছেড়ে আসা পথপানে তাকিয়ে থাকে। এর মধ্যে দিয়ে মানবেতর প্রাণীর প্রতি লেখকের অকৃত্রিম মমতা প্রকাশ পেয়েছে।

উত্তর: উদ্দীপকের ঝগড়ু একজন পাখিপ্রেমিক। উদ্দীপকে পশুপাখিদের প্রতি তার সহানুভূতিশীল মনোভাব পরিলক্ষিত হয়েছে।

‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পেও আমরা লেখকের মাঝে এ ধরনের সহানুভূতিশীলতা দেখতে পাই। সুতরাং ঝগড়ুর মানসিকতার সঙ্গে ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের লেখকের মনোভাবের সাদৃশ্য আছে এ কথা বলা যায়।

বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ঔপন্যাসিক শরত্চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত ‘অতিথির স্মৃতি’ একটি অন্যতম ছোট গল্প। এ গল্পে অবলা-অসহায় প্রাণীর প্রতি লেখকের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও গভীর সহানুভূতি প্রকাশ পেয়েছে। গল্পের ধারাবাহিকতায় একটি মানবেতর প্রাণী কুকুরের সঙ্গে লেখকের আন্তরিকতাপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়। অল্প দিনের মধ্যে তাদের এ সম্পর্কটি অত্যন্ত গভীর হয়। বিদায়বেলায় লেখক ও তাঁর অতিথি প্রাণীটির মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। দেওঘর থেকে বিদায়ের  সময় কুকুরটির কথা ভেবে লেখকের হূদয়ে ব্যথা অনুভূত হয়।

উত্তর: পশুপাখি প্রকৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। মানুষের উপকারেও পশুপাখির কার্যকর ভূমিকা রয়েছে। পশুপাখির সঙ্গে সদয় আচরণ ও সহানুভূতিশীল আচরণ করলে তারাও মানুষের আপনজনে পরিণত হয়। ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্প ও উদ্দীপকে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। উদ্দীপকে ঝগড়ু একজন পাখিপ্রেমিক। পশুপাখির প্রতি তার অপরিসীম দয়া। পশুপাখির দুঃখ-কষ্টে সে মর্মাহত হয়। তাদের ব্যথায় ব্যথিত হয়ে সে তাদের দুঃখ-কষ্ট দূর করতে ছুটে যায়। অনেক পশুপাখিই তার আপনজন। আহত পশুপাখিকে সেবা করাকে সে জীবনের ব্রত হিসেবে নিয়েছে। পশুপাখির সান্নিধ্যে সে শান্তি পায়।

আমাদের পঠিত ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পে মানবেতর প্রাণীর প্রতি লেখকের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও গভীর সহানুভূতি প্রকাশ পেয়েছে। গল্পের ধারাবাহিকতায় দেখা যায়, ভিন্ন পরিবেশে গল্পকথক একটি কুকুরের প্রতি মমতার এক মায়াবী বাঁধনে আবদ্ধ হয়। প্রাণীটিও তার আনুগত্য ও ভালোবাসা প্রকাশ করে মানুষটির সঙ্গে স্নেহ-প্রীতির সম্পর্ক গড়ে তোলে। সুতরাং বলা যায়, ভালোবাসা ও সহানুভূতিপূর্ণ আচরণ করলে মানবেতর পশুপাখিও মানুষের অপনজনে পরিণত হয়। তাই আমাদের উচিত মানবেতর প্রাণীর সঙ্গে সহানুভূতিপূর্ণ আচরণ করা উচিত।

সহকারী শিক্ষক

উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

Blog at WordPress.com.

Up ↑

%d bloggers like this: