প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা বাংলা

শখের মৃিশল্প

প্রিয় শিক্ষার্থী, আজ বাংলা বিষয়ের ‘শখের মৃিশল্প’ প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করা হবে। তোমরা মনোযোগসহকারে পাঠ আলোচনাটি পড়বে।

PSC Bangla 5

প্রশ্ন: টেরাকোটা কী?

উত্তর: প্রাচীনকাল থেকে আমাদের এই বাংলাদেশে মৃিশল্পের চর্চা হয়ে আসছে। প্রাচীন মৃিশল্পের মধ্যে অন্যতম হলো টেরাকোটা। টেরাকোটা একটি লাতিন শব্দ। ‘টেরা’ অর্থ মাটি আর কোটা অর্থ পোড়ানো। আমাদের দেশে একসময় সুন্দর পোড়ামাটির ফলকের কাজ হতো। এরই অন্য নাম টেরাকোটা। নকশা করা মাটির ফলক বা জিনিসগুলো ইটের মতো পুড়িয়ে তৈরি করা হতো টেরাকোটা।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের কোথায় পোড়ামাটির প্রাচীন শিল্প দেখতে পাওয়া যায়?

উত্তর: হাঁড়ি, কলসি ছাড়াও আমাদের দেশে একসময় গড়ে উঠেছিল সুন্দর পোড়ামাটির ফলকের কাজ। এর অন্য নাম টেরাকোটা।

নকশা করা মাটির ফলক ইটের মতো পুড়িয়ে তৈরি করা হতো এই শিল্প। বাংলাদেশের ময়নামতির শালবন বিহার, বগুড়ার মহাস্থানগড়, পাহাড়পুর বৌদ্ধ স্তূপ, দিনাজপুরের কান্তজির মন্দির ও বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ মসজিদে পোড়ামাটির প্রাচীন শিল্প দেখতে পাওয়া যায়। সম্প্রতি নরসিংদীর উয়ারী-বটেশ্বরে মাটি খুঁড়ে পাওয়া গেছে নানা ধরনের পোড়ামাটির পাত্র আর ফলক।

প্রশ্ন: মাটির শিল্প আমাদের ঐতিহ্য গৌরবের বিষয় কেন?

উত্তর: বাংলাদেশের প্রাচীন শিল্পকলার পরিচয় পাওয়া যায় মাটির শিল্পে। এটা এ দেশের নিজস্ব শিল্প। হাজার হাজার বছর ধরে এ দেশে মাটির শিল্পের চর্চা হয়ে আসছে। এ দেশের মানুষের মন যে শিল্পীর মন, এই মাটির শিল্প তারই পরিচয় বহন করে। ময়নামতির শালবন বিহার, বগুড়ার মহাস্থানগড়, বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ মসজিদে দেখা যায় পোড়ামাটির ফলকের নিদর্শন। তাই মাটির শিল্প আমাদের ঐতিহ্য ও গৌরবের বিষয়।

প্রশ্ন: মামার বাড়ি রসের হাঁড়িপ্রচলিত এই কথাটি দিয়ে কী বোঝানো হয়?

উত্তর: রসের হাঁড়ি একটি প্রচলিত কথা। এই কথার অর্থ হলো আনন্দ আর মজায় টইটুম্বর। সবার কাছে মামার বাড়ি মানেই মনভরে মজা লুটে নেওয়ার জায়গা। ঠিক যেমন রসের হাঁড়ি সবার প্রিয়। কারণ মামার বাড়িতে কোনো শাসন-বাধা নেই। পড়ার ঝামেলা নেই, যেখানে খুশি ঘুরে বেড়ানো যায়। আর আনন্দ নিয়ে মজার মজার খাবার খাওয়া যায়। অর্থাত্ মামার বাড়ি রসের হাঁড়ি—প্রচলিত এই কথাটি দিয়ে মামাবাড়ির নির্মল আনন্দের কথাই বোঝানো হয়েছে।

প্রশ্ন: নিচের কথাগুলো বুঝিয়ে লেখো

ক) মৃিশল্প খ) শখের হাঁড়ি গ) টেরাকোটা ঘ) টেপাপুতুল।

উত্তর:

ক) মৃিশল্প: মাটির তৈরি শিল্পকর্মকে বলা হয় মৃিশল্প। এ শিল্পের প্রধান উপকরণ হলো মাটি। তবে সব মাটি দিয়ে এ শিল্পকর্ম হয় না। এর জন্য দরকার পরিষ্কার এঁটেল মাটি। এ ধরনের মাটি বেশ আঠালো। তাই এই মাটি দিয়ে যত্ন আর শ্রমের মাধ্যমে তৈরি হয় মৃিশল্প। মাটির হাঁড়ি, কলস, সরা, বাসন-কোসন, পেয়ালা, সুরাই, মটকা, জালা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য মৃিশল্প।

খ) শখের হাঁড়ি: মানুষ শখ করে পছন্দের জিনিস যে মাটির হাঁড়িতে রাখে, সেই হাঁড়িকে শখের হাঁড়ি বলা হয়। শখের হাঁড়ি নানা রঙের ও নানা বর্ণের হয়ে থাকে। কোনো শখের হাঁড়িতে আঁকা থাকে ফুল-পাতা, আবার কোনো শখের হাঁড়িতে আঁকা থাকে মাছের ছবি।

গ) টেরাকোটা: টেরাকোটা শব্দটি লাতিন। ‘টেরা’ অর্থ মাটি আর ‘কোটা’ অর্থ পোড়ানো। মাটি পুড়িয়ে যে শিল্পকর্ম তৈরি হয় তার নাম টেরাকোটা। বাংলার অনেক পুরোনো শিল্প এই টেরাকোটা। নকশা করা মাটির ফলক ইটের মতো পুড়িয়ে তৈরি করা হতো টেরাকোটা। বাংলাদেশের ময়নামতির শালবন বিহার, বগুড়ার মহাস্থানগড়, পাহাড়পুর বৌদ্ধ স্তূপ, দিনাজপুরের কান্তজির মন্দিরে টেরাকোটার কাজ রয়েছে। তা ছাড়া বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ মসজিদেও পোড়ামাটির অপূর্ব সুন্দর কাজ রয়েছে। পোড়ামাটির এই শিল্পকর্ম বাংলার প্রাচীন মৃিশল্প।

ঘ) টেপাপুতুল: মাটি দিয়ে কুমোররা অনেক জিনিস তৈরি করেন। এর মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য শিল্পকর্ম হলো টেপাপুতুল। নরম এঁটেল মাটি টিপে টিপে যেসব পুতুল বানানো হয় সেগুলোকে বলা হয় টেপাপুতুল। অনেক রকম টেপাপুতুল রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বউ-জামাই, কৃষক, নথপরা ছোট্ট মেয়ে।

সিনিয়র শিক্ষক, আন-নাফ গ্রিন মডেল স্কুল, ঢাকা

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

Blog at WordPress.com.

Up ↑

%d bloggers like this: